সুন্দরবনের দস্যুদের আত্মসমর্পণের আহ্বান কোস্টগার্ডের
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১২-০৬-২০২৬ ০৫:৩২:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১২-০৬-২০২৬ ০৫:৩২:৪৬ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
সুন্দরবনের ডাকাত, জলদস্যু, বনদস্যু, চাঁদাবাজসহ সকল সন্ত্রাসী বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহবান জানিয়েছে কোস্টগার্ড।
কোস্ট গার্ড মোংলা স্টেশন জোনাল কমান্ডার পশ্চিম জোনের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম শুক্রবার (১২ জুন) সকালে এক ব্রিফিং এ আহবান জানান। সম্প্রতি ও সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের জাহাজের উপর হামলার প্রেক্ষিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, বাগেরহাটের মোংলায় জয় মনি ঘোল এলাকায় কোস্টগার্ডের হারবারিয়া স্টেশনে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। বাহিনীটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনসংলগ্ন ওই এলাকা বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সেখানে কোস্টগার্ড স্টেশন স্থাপনের পর দস্যুদের কাছে রসদ, অস্ত্র, লজিস্টিক সহায়তা ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ায় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি তারা মেনে নিতে পারছে না।
কোস্টগার্ড জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার জয় মনি ঘোল এলাকায় অবস্থিত কোস্টগার্ড স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন কোস্টগার্ড সদস্য আহত হন। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, কোনো অপপ্রচার, গুজব কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বাংলাদেশ কোস্টগার্ডকে দায়িত্ব পালন থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। আইন ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থে পরিচালিত কার্যক্রম ভবিষ্যতেও একই দৃঢ়তা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বনদস্যু ও জলদস্যু নির্মূল, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মংলা বন্দরের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ কার্যক্রম ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সব জলদস্যু ও বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৪২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ২৫০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৯৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, একটি ককটেল, একটি টেলিস্কোপ এবং দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স